ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি বিস্তারিত জেনে নিন
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা এ বিষয়ে অনেকেই গুগলের সার্চ করে থাকেন। আপনিও যদি এ বিষয়ে জানতে আগ্রহী হন তাহলে আমার আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্যই।
প্রযুক্তির উন্নতির কারণে বিশ্বব্যাপী অনলাইন ইনকামের চাহিদা বেড়েছে আজকাল অনেকেই কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ না করে ঘরে বসে ইনকাম করতে চায়। তাই আজকের আর্টিকেলে ফিন্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি ও এই সেক্টর সম্পর্কে আরো অন্যান্য বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরব।
পেইজ সূচিপত্র : ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি
- ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি
- ফ্রিল্যান্সিং এ আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কত?
- ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোন কোন কাজের চাহিদা বেশি।
- ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কিভাবে করতে হয়?
- ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যার দিক থেকে কোন মার্কেটপ্লেসটি সবথেকে বড়?
- একজন ফ্রিল্যান্সারের মাসিক আয় কত?
- বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং থেকে টাকা পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যমিক কোনটি?
- ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজে সব থেকে বেশি আয় করা যায়?
- ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা কি কি?
- শেষ কথা:ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি?
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি?
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৫ সালের এসে যদি এই প্রশ্ন হয় কোন
কাজের চাহিদা বেশি তাহলে বলবো কয়েকটি সেক্টরের কথা প্রথমেই যে সেক্টরের কথা বলবো
সেটি হচ্ছে
ভিডিও এডিটিং
২০২৫ সালে এসে আপনি যদি এটা বুঝতে না পারেন যে সব কিছু দিনে দিনে
ভিজুয়াল হয়ে যাচ্ছে তাহলে পিছিয়ে পড়বেন। মানুষ ব্লক করতে ভালোবাসতো এখন মানুষ
ব্লক দেখতে ভালোবাসে।টেক জুড়ির দেওয়া এক তথ্য মতে ইউটিউবে প্রতিদিন ৩.৭ মিলিয়ন
ভিডিও আপলোড হয় কাজেই এটা বলা যায় যে এই ভিডিও ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে এগিয়ে
যাচ্ছে যদি আপনার ভিডিও এডিটিং স্কিল থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন।
শুধু বড় ভিডিও নয় শর্ট ভিডিও রীলস এর চাহিদা বাড়ছে ব্যাপক হারে। ভিডিও
এডিটিং শিখলে আপনি যে সবচেয়ে বড় অ্যাডভান্টেজ পাবেন তা হল আপনি যদি
ফ্রিল্যান্সিং নাও করতে চান নিজেই কনটেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং
আপনি যদি একজন ডিজিটাল মার্কেটার হন তাহলে ২০২৫ সালে এসে আপনি অনেকের থেকে এগিয়ে
থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। ডিজিটাল মার্কেটিং এর বেশ কয়েকটি সাব ক্যাটাগরি রয়েছে
যেমন এসইও কন্টেন মেকিং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং,
পিপিসি রয়েছে অর্থাৎ পে পার ক্লিক। ফোবস(Forbes) এর মতে, বর্তমানে প্রায়
প্রতিদিন ২০০০ মানুষ মিলিয়নিয়ার হয় এবং এই ২০০০ এর মধ্যে প্রায় ৭০% এর ব্যবসা
ও কাজ ইন্টারনেট ভিত্তিক। তার মানে প্রতি ২৪ ঘন্টায় ২০০০ বিজনেস রান হলে
মার্কেটিং এর পোস্ট তৈরি হচ্ছে ৭০% ৭০% কথা প্রায় ১৪০০।
ওয়েব ডিজাইনিং
ফোর্বস (Forbes) এর মতে, প্রতি ২৪ ঘন্টায় প্রায় ২০০০ বিজনেস চালু হচ্ছে
আর এই ২০০০ এর মধ্যে প্রায় ১৪০০ বিজনেস ইন্টারনেট ভিত্তিক ৪০০ বিজনেস তাদের
ওয়েবসাইট করবে না বাকি ১০০০ বিজনেস এর নিজস্ব ওয়েবসাইট লাগবে। আপনি যদি ওয়েব
ডেভেলপার হন তাহলে ভালো একটা সুযোগ আপনার সামনে থাকছে।
গ্রাফিক ডিজাইনিং
আপনি হয়তো বা ভাবছেন AI এর এই যুগে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং চাহিদা কি থাকবে? অবশ্যই
থাকবে। কারণ AI আপনার কাজ মাফ করে দেবে যদি আপনি স্কিল্ড হন কখনোই আপনাকে রিপ্লেস
করতে পারবে না। গ্রাফিক ডিজাইনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো আপনি ফ্রিল্যান্সিং
মার্কেটপ্লেস থেকে সরাসরি বায়ারের সাথে তো কাজ করতে পারবেন সেই সাথে মাইক্রোস্টক
সাইটে আপনার কাজ সারা জীবন আপলোড করে সারা জীবন সেখান থেকে ঢাকায় করতে পারবেন।
অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং এটার ভবিষ্যত্ব অনেক উজ্জল। আপনি
যদি মনে করেন ফিনান্সিং এর ক্যারিয়ারের জন্য কোন একটি সেক্টর নির্বাচন করবেন
তাহলে অনায়াসে আপনি অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট নির্বাচন করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কত?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাগাজিন সিইওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন ১৯ এপ্রিল ২০২৪
সালে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে তা হল ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য সেরা গন্তব্য ৩০
টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। আর এই তালিকায় দেশ সেরা ফ্রিল্যান্সারে প্রথম
স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়
অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯ তম। সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন
এই তালিকাটি প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন
বিশ্লেষণ করে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোন দেশের চাহিদা বেশি তার একটি তালিকা
তৈরি করেছেন।
তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান
তানজিবার রহমান এর মতে এ তালিকাটি করা হয়েছে হায়ারিং এর উপরে ভিত্তি করে অর্থাৎ
কাজ দেয়ার প্রবণতার উপর ভিত্তি করে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে যদিও বাংলাদেশ
ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয়। কিন্তু কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের
দেশের কর্মীরা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে এবং তারা এখনো অনেক কম পারিশ্রমিকে কাজ
করে যাচ্ছে যাচ্ছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোন কাজের চাহিদা বেশি?
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ১১২ কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে। আর প্রতিবছর ইন্টারনেটে
যুক্ত হচ্ছে প্রায় ৯ কোটি ওয়েবসাইট। কিন্তু গুগলে কিছু লিখে সার্চ করলে সবার
শুরুতে কোন ওয়েবসাইটগুলো আসে এবং কেন আসে কখনো কি তা ভেবে দেখেছেন। সার্চ ইঞ্জিন
অপটিমাইজেশন সংক্ষেপে SEO হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর সব থেকে ডিমান্ড ডিং এবং
গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল এটি। ধরুন আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসা ও কাস্টমার
বাড়াতে চান আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কিত সকল তথ্য আপনার ওয়েবসাইটের দেওয়া আছে।
আরো পড়ুনঃ
এবার আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কিত কোনো কিছু লিখে কেউ ওয়েবসাইটের সার্চ করলে
কোটি কোটি ওয়েবসাইটের ভেতর যেন আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চ করে প্রথম পেজের একদম
প্রথম দিকে দেখানো যায় সেজন্য কাজ করে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসিও। এমন
ধরুন আপনি ওয়েবসাইটে কোন কিছু লিখে সার্চ করলে প্রথম দিকে যে ওয়েবসাইট বা
লিংক আসে আপনি সেখানে ক্লিক করেন। আর যত ক্লিক তত ভিজিট। আর সেই সাথে
বিজনেস বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। তাই এসইও এতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ডিমান্ডিং।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরো কিছু ডিমান্ডিং সেক্টর রয়েছে এরমধ্যে কনটেন্ট
মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, মার্কেটিং অ্যানালিটিক্স ও ডেটা
অ্যানালাইসিস সহ আরো অনেক কিছু। কনটেন্ট মার্কেটিং এ ভিডিও গ্রাফিক্স টেক্সট
আর্টিকেল অথবা ভয়েস পডকাস্ট ব্যবহার করে যেকোনো পণ্য বা ব্র্যান্ডের প্রমোশন করা
হয়। যা অডিয়েন্সকে সহজেই কাস্টমারে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে। পরেই রয়েছে
সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম টুইটার মার্কেটিং।এখানে আপনার
প্রোডাক্ট বা ব্র্যান্ডকে খুব সহজে কাস্টমারের কাছে উপস্থাপন করে পরিচয় করিয়ে
দিতে পারেন।
এছাড়া রয়েছে ডেটা অ্যানালাইসিস, ডেটা মার্কেটিং, অ্যানালিটিক্স,
কপিরাইটিং,কন্টেন রাইটিং এর ডিমান্ড ও দিন দিন বাড়ছে। আপনি যদি ডিজিটাল
মার্কেটটার হতে চান তাহলে কোন কাজ করবেন সেটা নির্বাচন করা সব থেকে বেশি জরুরী।
আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ব্যর্থ হয় তার কারণ হচ্ছে
আমরা কোন স্কিল ভালোভাবে রপ্ত করি না। আমরা খুব তাড়াহুড়ো করে অধৈর্যের সাথে
কোর্সগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করে মার্কেটপ্লেসে কাজ করব চিন্তা করে যেটা আমাদের
একদমই করা উচিত নয়।
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কিভাবে করতে হয়?
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি এই বিষয় সম্পর্কে আমরা জানলাম এখন
আপনার প্রশ্ন আসবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ কিভাবে করতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং কাজ
আসলে দুই ভাবে শুরু করা যায় প্রথম পর্ব, youtube বা অনলাইনে ভিডিও দেখে বা
শেয়ার করে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করা যায় কিন্তু এই সোর্স থেকে
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখে প্রায় ২% মানুষ। তবে বেশিরভাগ মানুষকে বুকে হলে
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে করতে হয় তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনাকে অবশ্যই কোন একটা
বিষয়ে ভালোভাবে দক্ষ হতে হবে।
সেটা হতে পারে ডিজিটাল মার্কেটার, হতে পারে এসিও এক্সপার্ট হতে পারে
গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডিজাইনার অর্থাৎ কোন একটি বিষয়ে আপনাকে এক্সপার্ট হতে হবে।
দ্বিতীয় পর্বে, আপনাকে মার্কেটপ্লেস থেকে যেমন আপওয়ার্ক, ফাইবার,ফ্রিল্যান্সার
গুরু থেকে কাজ নিতে হবে যেহেতু আপনি পার্ট হয়েছেন।এটি একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম
এখানে বাইয়ারদেরকে কনভেন্স করে কাজ নিয়ে আসতে হয়। তবে এখানে একটা জটিলতা
রয়েছে তা হল বায়েদের সাথে কমিউনিকেশন আপনাকে ইংলিশে করতে হবে আপনি মেসেজের
মাধ্যমেই লিখেন বা কোন প্রপোজাল সাবমিট করেন, ফাইবারে গিগ তৈরি করেন এটা কিন্তু
আপনাকে ইংরেজিতে করতে হবে। ইংরেজি জানাটা জরুরী।
আরো কিছু ব্যাপার রয়েছে আপনি তাদের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে আসবেন সেটা কোন
মাধ্যমে নিবেন কিভাবে নিবেন সেটিও একটি জানার বিষয়। এই বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে তারা
অনলাইনে বা ইউটিউবে ঘাটাঘাটি করে এ কাজগুলো করতে পারে কিন্তু যাদের এ সম্পর্কে
ধারণা নেই তাদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোর্সে ভর্তি হতে হয়। আপনি আপনি যদি কোন
প্রতিষ্ঠানে কোর্সে ভর্তি হন সে ক্ষেত্রে আপনার সমস্যাগুলো সরাসরি জিজ্ঞাসা করে
সমাধান করে নিতে পারেন।
তবে আপনি কিন্তু ইউটিউবে ভিডিও দেখে একজন ফ্রিল্যান্সার বা একজন কন্টেন্ট
ক্রিয়েটর হতে পারেন। আর আপনি যদি মনে করেন আপনি আরো এডভান্স লেভেলে বিষয়গুলোকে
জানতে চান সে ক্ষেত্রে প্রচুর ভিডিও রয়েছে আপনি সেখান থেকে সার্চ করে অনেক কিছুই
জানতে পারবেন। তবে আপনি কি একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে আপনি যদি
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতে চান আপনাকে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হতে
হবে। হতে পারে সেটা এসইও এক্সপার্ট ওয়েব ডেভেলপার গ্রাফিক্স ডিজাইনার ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যার দিক থেকে কোন মার্কেটপ্লেসটি সবথেকে বড়?
ফ্রিল্যান্সিংয়ের এর জন্য বেশ কিছু জনপ্রিয় মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে
আপওয়ার্ক ফাইবার গুরু ডট কম পিপলপার আওয়ার ফ্রিল্যান্সার
ডটকম।এছাড়া আরো অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে কিন্তু ওই মার্কেটপ্লেসগুলো বিশেষ
বিশেষ কাজের জন্য কিন্তু ফাইবার ডট কম উপওয়ার্ক ডট কম এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে সব
ধরনের কাজের বাযার এবং সেলার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসের
কথা বলি তাহলে হল আপওয়ার্ক ও ফাইবার।বর্তমানে প্রায় ১২ মিলিয়নের বেশি নিবন্ধিত
ফ্রিল্যান্সার ও ৫ মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধিত ক্লায়েন্টসহ মার্কেটপ্লেসে কাজ
করছে।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং জগতের সবথেকে জায়েন্ট ও জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস এর
নাম আপওয়ার্ক ডট কম।আপপওয়ার্ক ডটকম এটি মূলত একটি বিট ভিত্তিক
মার্কেটপ্লেস। অপরকে একজন বায়ার এসে জব পোস্ট করবে সেখানে অনেক ফ্রিল্যান্সার
প্রপোজাল পাঠাবে এই প্রপোজালের মধ্যে তাদের পোর্টফোলিও প্রিভিয়াস কাজের স্যাম্পল
ইত্যাদি পাঠাবে বায়াররা সেখান থেকে একজনকে নির্বাচন করবে। এবং মজার বিষয় হচ্ছে
এখানে আপনি খুব বড় বড় কাজ এবং ঘন্টা চুক্তিতে কাজ করতে পারবেন।আপওয়ার্ক এর কাজ
এটা একটা লং টাইম প্রজেক্ট এখানে মূলত বায়াররা অভিজ্ঞদের নির্বাচন করে।
দ্বিতীয়তঃ যে নামটি আসে সেটি হল ফাইবার। ফাইবার ডট কম এটি একটি মূলত গিগ
ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস ইসরাইল ভিত্তিক একটি মার্কেটপ্লেস এখানে মূলত নতুন
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বেশ উপযোগী একটি মার্কেটপ্লেস। এখানে মূলত একজন
ফ্রিল্যান্সার তার পোর্টফোলিও দিয়ে এবং পূর্বে করা কাজের স্যাম্পল দিয়ে একটি
প্রাইজ নির্ধারণ করে। বায়ারা যদি তার প্রোটকলীয় এবং পূর্বের কাজের কাজ দেখে
ভালো লাগে সেক্ষেত্রে তাকে অর্ডার করে। তবে নতুনদের জন্য ফাইবার ভালো।
একজন ফ্রিল্যান্সারের মাসিক আয় কত?
প্রকৃতপক্ষে ফ্রিল্যান্সিং করে নির্দিষ্ট ভাবে বলা সম্ভব না মাসিক কত টাকা আয়
করা সম্ভব। কারণ এই সেক্টরটিতে আপনি সব সময় কাজ নাও পেতে পারেন। আপনার যখন কাজের
অর্ডার থাকবে তখন একসাথে ৫টা ১০টা ২০টা অর্ডার থাকতে পারে হয়তো এক মাসের মধ্যেই
আপনি ১/২/ ৩ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন আবার অনেক সময় এমন হয় আপনার হাতে কোন
কাজই থাকে না সে ক্ষেত্রে আপনার কোন ইনকাম হবে না।তবে আপনি শুরুর দিকে কত টাকা
পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন আপনার দ্বারা কত টাকা ইনকাম করা সম্ভব এটা নির্ভর করছে
আপনি কতটা দক্ষ ও পরিশ্রমী তাদের ধরন কাজের পরিমাণ তার ওপর।
আবার কোন কোন মার্কেটপ্লেসে ভিন্ন ভিন্ন পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে
নির্দিষ্ট করে বলা যায় না একজন ফ্রিল্যান্সার কত টাকা ইনকাম করে। অনেক
ফ্রিল্যান্সার আছে যারা শুরুর দিকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ইনকাম করে। আবার
অনেকেই আছে ৫০০০০ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ইনকাম করে। আবার অনেকেই আছে লাখ লাখ টাকা
ইনকাম করছে। তবে যারা অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সার তারা মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করে
থাকে।
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং থেকে টাকা পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম কোনটি?
এসে ফ্রিল্যান্সিং থেকে টাকা পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো পাইওনিয়ার
(pioneer)। এটি সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত মাধ্যম এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুবিধা
জনক। পাইওনিয়ার থেকে সরাসরি বিকাশ একাউন্টে টাকা পাঠানো সুবিধা
রয়েছে।দ্বিতীয়তঃ রয়েছে ওয়াইজ (wise) দ্রুত এবং কম খরচে টাকা আনতে এটি
জনপ্রিয়। ছাড়া ছোট লেনদেন এর জন্য আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হল স্ক্রিল(skrill)।
ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক প্লাটফর্ম আছে যারা স্ক্রিল (skrill )মাধ্যমে টাকা
উত্তোলনের সুযোগ দেয়।
এরপর রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এর জন্য বিকাশ বিকল্প
মাধ্যম। আরো রয়েছে পেপাল যদিও পেপাল সরাসরি বাংলাদেশে কাজ করে না কবে বিকল্প
পদ্ধতিকে পেপাল থেকে টাকা আনা যায়।ছাড়াও অপরকে সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের
সুবিধা ও ফ্রিল্যান্সারদের কাছে জনপ্রিয়। পাইওনিয়ার(pioneer) ও ওয়াইজের(wise)
মাধ্যমে আপনি সরাসরি ব্যাংকে টাকা আনতে পারবেন। তবে বাংলাদেশে কিছু ফ্রিল্যান্সার
ক্রিপ্ট কারেন্সির মাধ্যমে টাকা নেয় যেটা বাংলাদেশে এখনো বৈধতা পায়নি।
ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজে সব থেকে বেশি আয় করা যায়?
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশে এ ধরনের প্রশ্ন আমরা প্রায় গুগল এ
সার্চ করে থাকি। ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু সেক্টর রয়েছে যেখান থেকে আপনি ভালো
উপার্জন করতে পারবেন। তবে আপনি যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে দক্ষ বা প্রো না হন
পরিশ্রম করতে না জানেন তাহলে আপনি কোন সেক্টর থেকে তেমন কোন উপার্জন করতে পারবেন
না। প্রথমেই যে সেক্টর এর কথা বলব সেটা হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ওয়েব
ডেভেলপমেন্ট। একটি ওয়েবসাইটকে পরিচিত করার জন্য সকল ফাংশন কে বলা হয় ওয়েব
ডেভেলপমেন্ট এবং বর্তমানে চাহিদা মার্কেটপ্লেস গুলোতে অকল্পনীয হারে বেড়ে
গিয়েছে।
একজন ওয়েব ডেভেলপার ডিজাইনার প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে
পারে।কখনো কখনোই পরিমাণ আরো বেশিও হতে পারে।এরপরেই বলবো গ্রাফিক ডিজাইনের কথা এর
চাহিদাও কিন্তু কম নয় দিন দিন ফটোশপের চাহিদা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন
ই-কমার্স সাইডে এর কাজের পরিমাণ অনেক বেশি। বিভিন্ন কোম্পানির লোগো ডিজাইন করা
বইয়ের কাভার ডিজাইন করা অন্যান্য সেক্টরেও এই কাজের চাহিদা অনেক বেশি।
যেহেতু ই কমার্স সাইডের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং বেশিরভাগ মানুষ
অনলাইন থেকে কেনাকাটা করছে তাই প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর জন্য একজন ডিজিটাল
মার্কেটের চাহিদাও কিন্তু কম নয়। যারা এডমিন সাপোর্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে
কাজ করছে তারা অনেকেই মাসে ২ থেকে ৪ লক্ষ টাকার বেশি ইনকাম করছে। ওয়েব ডিজাইন
এন্ড ডেভেলপিং এর জন্য আপনাকে অনেক কোডিং জানতে হবে এবং সেগুলোকে মনে রাখতে হবে
এবং প্রায় ১ বছর আপনাকে সময় নিয়ে শিখতে হবে।
তবে আপনি যদি মনে করেন আপনি কোডিং এর কাজ মনে রাখতে পারবেন না এবং ১ বছর সময়
ব্যয় করতে পারবেন না সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনিং বা ডিজিটাল
মার্কেটার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করুন। তবে এখানেও আপনাকে পরিশ্রম করতে
হবে এবং ধৈর্য সহকারে লেগে থাকতে হবে। যে কাজই করুন না কেন আপনাকে ধৈর্য
ধরার ও পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। তোর দিকে হয়তো আপনি খুব
বেশি ইনকাম করতে পারবেন না কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি যখন কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে
এক্সপার্ট ও প্র হয়ে যাবেন তখন আপনার ইনকাম বাড়বে।
আরো পড়ুনঃ
ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা কি কি?
বর্তমান যুগে ফ্রিল্যান্সিং কাজ বেশ জনপ্রিয় বিশেষ করে বেকারত্ব দূর করতে
ফ্রিল্যান্সিং খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রিল্যান্সিং জগতে অনেক রকমের
আজ রয়েছে এবং ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতার কাজ রয়েছে। আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার
হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে চান তাহলে আপনি আপনার সুবিধা মত
ফ্রিল্যান্সিংয়ের যেকোনো একটি বা দুইটি সাইট বেছে নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি
করতে পারবেন। তবে আপনি যে সেক্টেরি বেছে নেন না কেন দক্ষতা ছাড়া আপনি কোথাও টিকে
থাকতে পারবেন না সেটা সাধারণ চাকরি হোক বা ফ্রিল্যান্সিং এর মত মুক্ত পেশা হোক না
কেন।
ফ্রিল্যান্সিং এর ১০টি সুবিধা রয়েছে নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।
- অন্যান্য চাকরির মত হলেও ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরি হলেও এর সবথেকে বড় সুবিধা হল আপনি স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন।
- আপনার কাজ করতে ভালো লাগছে না আপনি না চাইলে নাও করতে পারেন আবার যখন কাজ করতে ইচ্ছা করবে তখন আবার কাজ শুরু করতে পারবেন।
- অন্যান্য চাকরি ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট সময় থাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে নির্দিষ্ট কোন সময় বেঁধে দেওয়া নেই।
- এখানে নির্দিষ্ট কোন পথ নেই বা এমপ্লয়ি নেই আপনি যখন যার কাজ করবেন সেই আপনার বস বা ক্লায়েন্ট। নির্দিষ্ট কোন বসের অধীনে আপনাকে কাজ করতে হবে না।
- এখানে আরেকটি ভিন্নতা রয়েছে অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে যেমন আপনাকে অফিসে যেতে হয় ফ্রিল্যান্সিং এর কাজে আপনি ঘরে বসেই করতে পারেন যেটা আমার কাছে সব থেকে বড় সুবিধার মনে হয়।
- ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য আপনার সময়,স্কিল, ইন্টারনেট কানেকশন একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার যথেষ্ট।
- এখানে আপনি দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানি ও বিভিন্ন মানুষের সাথে কাজ করতে পারবেন।
- এখানে ফ্রিল্যান্সিং এর সরকারি বেসরকারি অনেক চাকরির তুলনায় আপনি বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
- আপনি কত টাকা ইনকাম করবেন তা আপনার নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।
- ফ্রিল্যান্সিং জগতে আপনি নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ভিন্ন ভিন্ন কাজের দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
শেষ কথা : ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি?
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি এ সম্পর্কে আপনাদের সামনে বিস্তারিত
তুলে ধরেছি। আপনি যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই উপকৃত
হবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর জগতে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে আপনি চাইলে
ফ্রিল্যান্সিংয়ের যেকোনো ১ বা ২ ক্যাটাগরি নির্বাচন করে সেই বিষয়ে নিজেকে
এক্সপার্ট করে তুলতে পারেন। এরপর আপনি চাইলে কোন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করতে পারেন
অথবা নিজে ভিডিও বানানো কনটেন্ট মেকিং এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। তবে
যাই করেন না কেন আপনার কঠোর পরিশ্রম ধৈর্য রাখার মানসিকতা থাকতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে অনেক মানুষই ব্যর্থ হয় তার মূল কারণ হচ্ছে আমরা যখন
কোন স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করি সেটা ভালোভাবে রপ্ত না করেই তাড়াহুড়া করে
ইনকামের আশায় মার্কেটপ্লেসে ঢুকে পরি যার কারণে আমরা অনেকেই ব্যর্থ হই এবং
নিজেকে ধরে রাখতে পারি না আপনি যখন কোন বিষয়ে সম্পর্কে শিখবেন তখন সেটাকে
ভালোভাবে রপ্ত করে ওই বিষয়ে রিলেটেড সমস্ত কিছু খুঁটিনাটি সম্পর্কে আপনাকে প্রো
হতে হবে। তাহলে আপনি ভালো ইনকাম করতে পারবেন। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন।আজ এই
পর্যন্ত আর্টিকেলটি আপনার বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের নিকট শেয়ার
করার জন্য অনুরোধ রইল।

Growwithnazmin এর'র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url