কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

কৃত্রিম বুদ্ধিমতার সুবিধা অসুবিধা নিয়ে ভাবছেন? বর্তমানে প্রায় সর্বক্ষেত্র যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার বেড়েই চলছে।

কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তার-সুবিধা-অসুবিধা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে অনেকেই চাকরি হারানোর ভয় করছে। আসলেই কি কৃত্রিম বুদ্ধিমতা মানুষকে চাপিয়ে যাচ্ছে? আমার আজকের আর্টিকেল এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরব

পেইজ সূচিপত্র : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা 

 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা 

 আপনি কি জানেন জাপান সহ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সংবাদ মাধ্যম গুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর দায়িত্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মেশিন গুলোর উপর দায়িত্ব দিয়েছে।
জন ম্যাকারথি সর্বপ্রথম আর্টিফিশিয়াল  ইন্টেলিজেন্স নামক এই টার্মটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করা ১৯৫৫ সালে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক একটি নীতি গবেষণা কেন্দ্র ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম জানিয়েছেন আগামী চার বছরের শুধুমাত্র রোবটের কারণে সারা বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে সাত কোটি লোক চাকরি হারাবে।সংস্থাটি আরো জানিয়েছে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কারণে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বুদ্ধিমত্তার কিছু সুবিধা সমূহ তুলে ধরা হলো।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কখনো ভুল করে না। মানুষ ভুল করতে পারে কিন্তু AI এর প্রোগ্রাম যদি সঠিকভাবে করা হয় কখনো তা ভুল হওয়ার নয়।
  • AI সিস্টেম বিভিন্ন মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে মানুষের চাইতেও অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে সময় বাঁচবে এবং কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন হবে।
  • ২৪ কাজ করার ক্ষমতা।মানুষ একটানা ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারে না। কারণ মানুষের ক্লান্তি রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেহেতু একটি মেশিন তাই ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারে আর ফলে কোম্পানির প্রোডাক্টিভিটি প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি পায়।
  •  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারে মানুষের জন্য করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম কয়লার খনির গভীরে গিয়ে কাজ করতে পারে সমুদ্রের গভীরতা অনুসন্ধান করতে পারে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে পারে এমনকি আগ্নেয়গিরিতেও প্রবেশ করতে পারে।
  • এ আই এর মাধ্যমে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো নির্ভুলভাবে করা যায় সর্বোচ্চ উপায় প্রোডাক্টিভিটি পাওয়া যায় এর ফলে সময় বাঁচে।  
  •  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাধারণত অ্যালগরিদম ও মেশিন লার্নিং সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশাল তথ্য ভান্ডার বিশ্লেষণ করে ফলাফল ও অনুমান জানিয়ে থাকে।
  •  মূলত আগের তথ্যই বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি।কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো এমন একটি কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি করা যা মানুষের আচরণ ও চিন্তাশক্তির আদলে জটিল সমস্যার সমাধান করা।
প্রত্যেকটি ভালো জিনিসের কিছু না কিছু মন্দ দিক থাকে। চলুন তাহলে আমরা জেনে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অসুবিধা গুলো।
  •  এ আই সিস্টেমের অসুবিধা বলতে প্রথমে যেটি মাথায় আসে সেটি হল এ আই সিস্টেম অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ আই সিস্টেমে লেটেস্ট হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার সহ নিয়মিত আপডেট রাখার জন্য এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য সবসময় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিতে অনেক ব্যয় করতে হয়।
  •  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পুনরাবৃত্তিক মূলক কাজ প্রতিস্থাপন করা গেলেও এটি কোম্পানির জন্য উপকারী তবে নিঃসন্দেহে এটি কর্মসংস্থান কে প্রভাবিত করে।
  •  তথ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাবে অনেক কর্মী তাদের গতানুগতিক চাকরিগুলো হারান।
  •  AI সিস্টেমের অন্য একটি ঘাটতি হচ্ছে সৃজনশীলতার অভাব। বিশেষ করে যখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারণার করা হয় তখন মার্কেটিং কৌশলের ক্ষেত্রে সে কোন সৃজনশীল ভাবনা করতে পারে না।
  •  যদিও এআই সিস্টেম উন্নত ও দ্রুত গতিতে কাজ সম্পন্ন করতে পারে কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেগকে ফ্যাক্টর করতে পারে না। সত্যিকারে মানবিক সংযোগ তৈরি করতে পারেনা।
  •  এটি মানুষকে অলসতার দিকে নিয়ে যায়। স্বয়ংক্রিয় কাজ করা এবং ব্যাপক মাত্রায় ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর ব্যবহার করা মেশিনের প্রতি মানুষের নির্ভরতা বাড়ায়।
  •  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরতার ফলে কোন কিছু মুখস্ত করতে  নতুন কলা কৌশল আবিষ্কার করতে এমনকি নিজেদের সমস্যাগুলোর সমাধান করার ক্ষেত্রে আমাদের মস্তিষ্ককে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারব না। প্রজন্মের উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমূহের ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো কি কি?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চমক নিয়ে আসছে এবং মানুষের জীবনকে বদলে দিচ্ছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিজ্ঞানী তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন আগামী ১২০ বছরের মধ্যে মানুষের প্রায় সব ধরনের কাজ রোবট দ্বারা সম্পন্ন করতে পারবে।মেশিন যখন মানুষের মত বুদ্ধি দেখায় তখন সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যুক্তি সমস্যার সমাধান মানুষের ভাষা বোঝার ক্ষমতা শিক্ষণ  পরিকল্পনা উপলব্ধি কোন বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটানো বা কোন বিষয় সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করার মত সামর্থ্য সম্পন্ন মেশিন হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মেশিন।চলুন জেনে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমূহের ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো।

 স্বাস্থ্য সেবা 

 এ আই এখন ডাক্তারদের সুপার অ্যাসিস্ট্যান্ট। এতে মানুষের চেয়েও দ্রুত ও নির্ভুল হতে পারে।যেমন ধরুন গুগলের এ আই সিস্টেম চোখের ছবি দেখে বলতে পারে 
 ডায়াবেটিসের কারণে চোখের কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা। আবার আইবিএম ওয়াটসন ক্যান্সারের ডাটা বিশ্লেষণ করে ডাক্তারদের সেরা ট্রিটমেন্ট বেছে নিতে সাহায্য করে।

 ই কমার্স ও বিনোদন 

 এই সেক্টর টি আমাদের সবার খুব পছন্দ। আপনি যখন অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্মে যেমন দারাজ এমাজন অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে কোন কিছু কিনেন তখন কি করে তারা আপনার পছন্দের সব জিনিস গুলো আপনার সামনে দেখায়? ভাবুন তো একবার।আসলে এর পেছনে রয়েছে এ আই। প্রকৃতপক্ষে আপনার পূর্বের কেনাকাটা এবং সার্চ হিস্ট্রি বিশ্লেষণ করে অনুযায়ী  আপনার সামনে প্রডাক্ট হাজির করে। ঠিক তেমনিভাবে নেটফ্লিক্স আপনার পছন্দের সিনেমা বা সিরিজ খুঁজে বের করে।আর স্পটিফাই সে তো আপনার মুড বুঝে পার্সোনাল প্লেলিস্ট বানিয়ে দেয়। এই যে আপনি ইউটিউব ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম  স্ক্রল করছেন নিউজ ফিডে কি আসবে কোন নিউজ দেখবেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে এ আই।

 শিক্ষা

শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছাত্রদের ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাস্টমাইজড লার্নিং প্লান তৈরি করা হচ্ছে ছাড়া অটোমেটেড টিউটোরিং সিস্টেম শিক্ষার ভবিষ্যৎপাল্টে দিতে পারে।

কাস্টমার সার্ভিস

 কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে কোন কিছু জানার জন্য এখন আর অপেক্ষা করতে হয় না বেশিরভাগ সময় একটি চ্যাটবট আমাদের সাহায্য করতে হাজির হয়ে যায়। এই এয়াই চ্যাটবট গুলো ২৪/৭ কাজ করে। আপনার সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে শুরু করে বিলের তথ্য জানানো সবকিছুই এ আই করে ফেলে। তাহলে আমরা দ্রুত সেবা পাই।

 কৃষি খাত

 আপনি হয়তো ভাবছেন কৃষিখাতে এআইয়ের আবার কি কাজ?এ এখন স্মার্ট ফার্মিং এ বিপ্লব আনছে। এয়ার চালিত ড্রোন ফসলের রোগ ও পোকার আক্রমণ সনাক্ত করতে পারে। আবার সিএন স্প্রের মত প্রযুক্তি শুধু আগাছা খুঁজে বের করে সেখানে কীটনাশক স্প্রে করে। কীটনাশকের ব্যবহার ৯০% পর্যন্ত কমে যায়।পরিবেশ এবং ফসল দুটোর জন্যই ভালো।তাহলে দেখতেই পাচ্ছেন পরিবেশ থেকে শুরু করে আপনার হাতে স্মার্টফোন পর্যন্ত এ আই আমাদের জীবনকে কতটা সহজ ও উন্নত করে তুলছে।

পরিবহন

ট্রান্সপোর্টেশন সেল্ফ ড্রাইভিং গাড়ির কথা আমরা অনেকেই জানি এর পেছনের মূল চালকই হল এ আই। ডেসলার এর মতো কোম্পানিগুলো তাদের গাড়িতে শক্তিশালী এআই ব্যবহার করে যা চারপাশে রাস্তা ট্রাফিক পথচারীদের চিনে নিজে নিজে গাড়ি চালাতে পারে। সিঙ্গাপুরের মত স্মার্ট সিটি গুলোতেও এআই  ট্রাফিক জ্যাম কমাতে সাহায্য করছে।

 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য সমূহ

 মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে তথ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে অতি অল্প সময়ের নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই প্রযুক্তিটি। পাশাপাশি প্রযুক্তিটি মানুষের মতই শেখে ও পরিবর্তিত হয়।বড় কিছু কিছু বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমতা মানুষের মস্তিষ্কে থেকেও উন্নত। তাই যে কোন শিল্প ও উদ্যোগের প্রসার ঘটাতে এর কাছে অনন্য ক্ষমতা। তাই যে কোন শিল্প ও উদ্যোগের প্রসার ঘটাতে এর আছে অনন্য ক্ষমতা।আপনি যখন আপনার স্মার্ট ফোনে গুগলকে অ্যাসিস্ট্যান্ট কে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করেন সেটা কি?

প্রকৃতপক্ষে ওটাই হচ্ছে এই আই। আপনি যখন নেটফ্লিক্স এ সিনেমা দেখেন এবং তারা আপনার পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা সাজেস্ট করে এটাও এআই। এআই মূলত ডেটা থেকে শেখে। কম্পিউটার প্রোগ্রামাররা বিশাল পরিমাণ ডাটা দিয়ে এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ আই ডেটার মধ্যে প্যাটার্ন খুঁজে বের করে। এবং সেই জ্ঞান ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করে। এখন প্রশ্ন হল এ আয় কিভাবে কাজ করে।

এআই কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে কিছু সহজ ধারণা বুঝতে হবে। যেমন এ আইকে প্রচুর ডেটা দেওয়া হয়। যেমন যদি এআইকে কুকুর চিনতে শেখানো হয় তবে তাকে হাজার হাজার কুকুরের ছবি দেখানো হবে। এ আই এ ডাটা থেকে প্যাটার্ন বা বৈশিষ্ট্য শিখে। যেমন কুকুরের কান কেমন হয় লেজ কেমন হয়।যখন একটি নতুন ছবি আসে এআই তার জ্ঞান ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করে বলে দেয় এটি কুকুর নাকি বিড়াল।এ আই এর অনেক রকম রয়েছে তবে সবচেয়ে প্রচলিত দুটি হল দুর্বল এ আই বা ন্যারো এ আই।

এটি একটি নির্দিষ্ট কাজ খুব ভালোভাবে করতে পারে। যেমন গুগল ট্রান্সলেটর ফেস রেকগনিশন সিস্টেম। শক্তিশালী এই আই বা জেনারেল এআই। এটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে আছে এটি মানুষের মতো যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে সক্ষম হবে। এটি শুধু আমাদের মোবাইলেই সীমাবদ্ধ নেই এটি আমাদের জীবনের প্রায় প্ৰতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে যেমন স্বাস্থ্য সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য কৃষিকাজ পরিবহন ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের ব্যবসায়ী কার্যক্রম প্রভাবিত করে?

 অনেকেই মনে করছেন ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এআই হতে পারে একটি সেরা অপশন। বিশেষ করে বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা কে অটোমেশন করার জন্য এ আই এর ব্যবহার করছে। এর ফলে অনেকেই মনে করছেন চাকরি হারানো সম্ভাবনা বাড়ছে আসলেই কি বিষয়টি তাই। অনেকের ধারণা মানুষের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে এ আই কে ব্যবহার করে মানুষ এক সময় নিজেই বিপদে পড়ে যাবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এআই হতে পারে মানুষের একজন উপকারী বন্ধু। সাম্প্রতিককালে ব্যবসা-বাণিজ্য কে প্রসার করার জন্য এ আই হলো সেরা অপশন।

বিশ্বের বড় বড় জায়ান্ট কোম্পানিগুলো এয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বড় বড় কোম্পানিগুলো নিজেদের খরচ কমিয়ে আনার জন্য এ আই এর ব্যবহার করছে।এ আই অল্প সময় অল্প বাজেটের মধ্যে যে কোন কোম্পানি আরো নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। মনে করেন আপনি একটি মার্কেটিং এজেন্সি তৈরি করতে পারেন এই মার্কেটিং এজেন্সি তৈরি করার জন্য সফটওয়্যার এ যে সার্ভিসের টুলস গুলো রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন কাউকে সেবা দেয়ার জন্য। ঠিক সেভাবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এ আই আসার পর মানুষ এখন চাইলে অল্প সময়ের মধ্যে অল্প খরচের মধ্যে যেকোনো কোম্পানি তৈরি করতে পারবে। 

এবং নিজের স্টাট আপ প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ আই এর প্রতি ঝুঁকে পড়বে।তাই অল্প বাজেটে যেকোনো কর্মপ্রতিষ্ঠান করা যাবে। আগে মানুষ নিজের কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রচারণার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করতো তো এখন অল্প সময় অল্প বাজেটে এআইটুল ব্যবহার করে মানুষ নিজেদের পণ্য ও সার্ভিস অন্যের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে পারে। এবং এ এ আই হতে পারে মানুষের মার্কেটিং টুলস। আমার মতে এআইকে ভবিষ্যতের হুমকি-স্বরূপ না ভেবে এআই হতে পারে মানুষের বন্ধু।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামাজিক প্রভাব কি কি?

 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা দুটোই রয়েছে। তবে আমরা যদি এর সঠিক ব্যবহার করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগাতে পারি তাহলে এটি আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারবে।বর্তমানে যে হার প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হচ্ছে এ আই যেন দৈনন্দিন বাস্তবতা। এ আই এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ অংশ।ব্যক্তি জীবন,পেশাগত জীবন,শিক্ষা চিকিৎসা শিক্ষা কৃষি ব্যবসা-বাণিজ্য বিনোদন সর্বক্ষেত্রে এখন এ আই এর ব্যবহার হচ্ছে।যেমন স্বাস্থ্য খাতে রোগ নির্ণয় ও দ্রুত নেওয়ার জন্য এ ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন ক্যান্সার সনাক্তকরণ, এমআরআই, এক্সরে রিপোর্ট বিশ্লেষণ, রোগীর ইতিহাস মূল্যায়ন এ আই চিকিৎসকদের সহায়তা করছে।

 শিক্ষা ব্যবস্থায় পার্সোনালাইজড লার্নিং সম্ভব। শিক্ষার্থীর দুর্বলতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কনটেন্ট সরবরাহ করে এ আই ভিত্তিক অ্যাপ গুলো। একই সঙ্গে শিক্ষকরা অটোমেটেড অ্যাসেসমেন্ট এবং ডেটা এনালাইসিস এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি সহজেই নির্ণয় করতে পারছেন। ব্যবসা ও অর্থনীতিতে বৃহৎ ডাটা বিশ্লেষণ গ্রাহক সেবা চ্যাটবট মেশিন লার্নিং দিয়ে বাজার পূর্বাভাস
 এবং অটোমেটেড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এর মাধ্যমে এ আই ব্যবসা ও অর্থনীতির গতিপথ বদলে দিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে তাই এআইয়ের সহায়তায় গ্রাহকের আচরণ বুঝে নেওয়া, বিজ্ঞাপন কৌশল ঠিক করা এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সক্ষম হচ্ছে।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার তিনটি প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য

তিনটি প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা দুটোই রয়েছে।প্রথম প্রজন্ম (১৯৫০-১৯৮০) নিয়ম ভিত্তিক বা (Rule based system) সংকীর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই যা নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্তের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে লজিক ও প্রতীকি যুক্তির মাধ্যমে সমাধান করত। প্রোগ্রামিং ও ডাট ডেটা ইনপুটে মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। এর ক্ষমতার সীমাবদ্ধ।যেমন পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট siri Alexa, প্রাথমিক এক্সপার্ট সিস্টেম যা চিকিৎসা নির্ণয় নির্দিষ্ট পরামর্শের জন্য ব্যবহার করা হতো।

দ্বিতীয় প্রজন্ম(১৯৮০-২০১০) এটি মেশিন লার্নিং ভিত্তিক এ আই। মানুষের মত সাধারন চিন্তা ভাবনা করতে সক্ষমতা রাখে। দ্বিতীয় প্রজন্ম এ আই বিভিন্ন তথ্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম। এবং অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধানের সক্ষম। যেমন চ্যাট জিটিপি। দ্বিতীয় প্রজন্মের এই আই পরিসংখ্যান ও ডেটা এনালাইসিস ব্যবহার  করে নতুন ধরন শিখতে সক্ষম। তবে এর সীমাবদ্ধতা হলো মডেল গুলো বেশি পরিমাণে ডেটার ওপর নির্ভরশীল ছিল।উদাহরণস্বরূপ বলা যায় স্প্যাম ফিল্টার ও ডেটা বিশ্লেষণ।

তৃতীয় প্রজন্ম (২০১০- বর্তমান সময়) কোন ভিত্তি হল গভীর শিক্ষণ বা ডিপ লার্নিং।এটা সুপার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচুর পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। তৃতীয় প্রজন্মের এ আই মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কের অনুকরণ করে কাজ করে। এই প্রজন্মের এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা এবং বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেমন সেলফ ড্রাইভিং কার। এছাড়া প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ যেমন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, siri। চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় শিক্ষাব্যবস্থা, ব্যবসা চ্যাটবট বিনোদন প্রভৃতি ক্ষেত্রে  ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে।

শেষ কথা:কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা দুটোই রয়েছে।এটি বর্তমান বিশ্বের সবথেকে আলোচিত বিষয়। তবে এর সঠিক ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে তোলে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বহু কাজ খুব সহজে এবং নির্ভুল ভাবে এর মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। নতুন ফটো তৈরি করা ভিডিও এডিটিং করা কনটেন্ট লেখা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ দেওয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে সাহায্য করা ইমেইলের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর দেওয়া এমনকি মিউজিক তৈরি করা প্রভৃতি নানান কাজে আমাদের সাহায্য করে চলেছে। ফলে পৃথিবীতে এক নতুন বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সকল কাজগুলো খুব অল্প সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে করা সম্ভব তাই এই সমস্ত সেক্টরে এআইয়ের প্রভাব পড়বে এখানে কোটি কোটি মানুষ চেয়ে কর্মহীন হয়ে পড়বে এ কথা বলাই বাহুল্য।তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা না থাকলে এ আই এর কারণে অনেক মানুষ যেমন কর্মক্ষেত্র কর্মহীন হয়ে পড়বে তেমনি অনেক নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে। কারণ এআইকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মানুষকেই প্রয়োজন হবে।এ আই অভিশাপ না ভেবে এর সঠিক ব্যবহার করে এর সুবিধা গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।আজ এই পর্যন্তই পাঠিয়েছি ভালো লাগলে আপনার পরিচিত জনদের শেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Growwithnazmin এর'র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url