দুধের গরুর খাবার তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
দুধের গরুর খাবার তালিকা নিয়ে চিন্তিত? দুধের গরুর খাবার তালিকা কেমন হলে দুধ উৎপাদন বেশি হবে সে সম্পর্কে যদি আপনি জানতে চান তাহলে আজকের আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
আপনারা অনেকেই আছেন যারা নতুন খামারি বা খামার করবেন ভাবছেন। আজকের এই আর্টিকেলে
দুধের গরুর খাবার তালিকা সহ গবাদি পশু বিষয়ক আনুষাঙ্গিক আরো বিষয় আপনাদের সামনে
তুলে ধরব।
পেইজ সূচিপত্র:দুধের গরুর খাদ্য তালিকা
- দুধের গরুর খাদ্য তালিকা
- ষাঁড় গরু মোটাজাতকরণ দানাদার খাদ্য তালিকা
- গর্ভবতী গাভীর খাদ্য তালিকা
- গরুর দুধ বাড়ানোর উপায়
- গাভীর দুধ দোহন পদ্ধতি
- গাভীর দুধ কমে যাওয়ার কারণ
- কোন জাতের গরুর দুধ সবচেয়ে বেশি হয়?
- গাভীর দুধ বন্ধ করার উপায় কি?
- শেষ কথা:গরুর দুধের গরুর খাদ্য তালিকা
দুধের গরুর খাদ্য তালিকা
দুধের গরুর খাদ্য তালিকা অন্যান্য গরু বা ষাঁড় গরুর খাদ্য তালিকা থেকে
কিছুটা ভিন্ন।গরুর শারীরিক গঠন ঠিক রাখার জন্য ও বেশি দুধ পেতে চান তাহলে দুগ্ধ
গাভীর খাবার ব্যবস্থাপনায় আপনাকে তো দিতে হবে। গরুর প্রধান খাদ্য কাঁচা ঘাস হলেও
এর পাশাপাশি গরুর শারীরিক গঠনের জন্য অন্যান্য ও দানাদার খাবার দিতে হবে পরিমাণ
অনুযায়ী। যারা নতুন গরু পালন করছেন বা খামারি আছেন তাদের জন্য গরু দুধের গরুর
একটি সুষম খাদ্য তালিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে দুধের গরুর খাবার তালিকা দেয়া
হলো।
সবুজ ঘাস ও আঁশ জাতীয় খাবার
এই তালিকায় অন্তর্গত কাঁচা ঘাস, ধানের খড়,ভুট্টার খড় ও ফসলী জমিতে জন্মানো আগাছা
আঁশ জাতীয় খাবারের অন্তর্ভুক্ত। আর জাতীয় খাবার দুই ধরনের একটি হচ্ছে কাঁচা ঘাস
ও শুকনো খড়। আমাদের দেশে গোচরণ ভূমি কম তাই কাঁচা ঘাসের অনেক অভাব। বর্তমানে
আমাদের দেশে উন্নত ঘাসের বীজ যেমন হাইব্রিড সর্গম নেপিয়ার পারা ইত্যাদি পাওয়া
যায়। দুধের গরুকে ওজন ও দুধ উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে সাধারণত ৫-৬ সবুজ ঘাস ১
থেকে ২ কেজি খড় দেয়া হয়।
দানাদার খাদ্য
এই খাবারের অন্তর্ভুক্ত চালের কুড়া, খেসারির ভুসি, গমের ভুসি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুগ
ছোলা, তিলের খৈল, তিশির খৈল সয়াবিন মিল ইত্যাদি। গরুর দুধ উৎপাদনের উপর
ভিত্তি করে নির্দিষ্ট অনুপাতে খাবার দিতে হয়। একটি দুধের গরুকে তার ওজন ও দুধ
উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে প্রতি কেজি দুধের জন্য ১ কেজি পরিমাণ দানাদার খাদ্য
দেওয়া হয়।
অন্যান্য খাবার
গরুকে খড় কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি খনিজ লবণ ও ভিটামিন
এ ডি ই ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ক্যালসিয়াম ফসফরাস ম্যাগনেসিয়াম আয়োডিন
ইত্যাদি খনিজ গুলো সাপ্লিমেন্ট হিসেবে দেওয়া হয় তবে সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পূর্বে
অবশ্যই একজন পশুর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিতে হবে। সাধারণত দানাদার খাদ্যের
সাথে ১% লবণ ও ১% জীবাণুমুক্ত হাড়ের গুঁড়া মেশানো হয়।
যে সকল বিষয় মনে রাখতে হবে
গাভীকে মাঝে মাঝে ঘাসে চড়ানোটা গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে মাঝে ঘাসে চড়ালে গাভী
পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান পায় এবং গাভীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং প্রজনন
ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
ষাঁড় গরু মোটা জাতকরণ দানাদার খাদ্য তালিকা
গরু মোটাজাত করণ বেশিরভাগ গ্রামেই হয়ে থাকে আর গ্রামে গরুকে বেশিরভাগ সময় যে
খাবারটা দিয়ে থাকে চাউলের খুদ। চাউলের খুদে প্রোটিন থাকে ৭. ০৯% (তথ্য
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ) ভুট্টার মধ্যে প্রোটিন থাকে ৮. ৮৯% যা চাউলের খুদ থেকে
কিছুটা হলেও বেশি। গরুর প্রধান খাবার গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে গম ভাঙ্গা বা গম
চূর্ণ।গমের চূর্ণ এ রয়েছে প্রোটিন ১২. ৫ % যা কিনা ভুট্টা থেকে বেশি।গমের ভুসিতে
রয়েছে ১৭. ৩% প্রোটিন যা গম ভাঙার থেকে কিছুটা হলেও বেশি।
তবে গমের ভুষির কয়েকটি গ্রেড রয়েছে গ্রেড এ প্রোটিন রয়েছে ১৭. ৩% গ্রেড
বি রয়েছে ১৫.৪ % যা কিনা গম ভাঙার থেকে অনেকাংশেই বেশি। ষাঁড় গরু মোটা জাতকরণের
জন্য কিছু খাবার রয়েছে যেগুলোতে অনেক বেশি প্রোটিন এবং কম খাওয়ালেই ভালো ফল
পাওয়া যায়। আপনারা জানলে অবাক হবেন কলাই চা ডাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই কলা
এর ঘাসে রয়েছে প্রোটিন ১৩.১ %। সেই কলাই এর খড় অর্থাৎ শুকনো অবস্থায় কলাই এর
খড়ে রয়েছে ১৪% প্রোটিন।
এছাড়া অনেক কৃষক ভাই ডালের জন্য খেসারি বুনে থাকে মাঠে আর সেই খেসারির গাছে
রয়েছে ১৯% প্রোটিন।বরবটিতে রয়েছে ২১. ৪% প্রোটিন। এর থেকেও অনেক বেশি প্রোটিন
রয়েছে ইপিলিপিল গাছের পাতায় ২৩. ১%। এছাড়া মাঠের মাটিকে উর্বর করার জন্য ধোনির
চা চাষ করা হয়ে থাকে আর এই ধনীসায় রয়েছে ২৬. ৫% প্রোটিন যা কিনা চালের খুদ
থেকে ৪ গুন প্রায়। আর গমের ভুসি থেকে দ্বিগুণ। কচুরিপানায় প্রোটিন রয়েছে
১১.৪%।
এর থেকেও বেশি প্রোটিন রয়েছে যে খাবারগুলোতে তার মধ্যে নারকেলের খৈল অন্যতম এতে
রয়েছে ২০. ৪% প্রোটিন। তুলা বীজের খৈল এ রয়েছে ২২. ৩% এবং তিলের খৈল এ প্রোটিন
রয়েছে ২৬.৭% সরিষার খইলে প্রোটিন রয়েছে ৩৫. ৪% এর থেকে বেশি প্রোটিন
রয়েছে খেসারি ভাঙ্গায় ৩৮. ৮%। সয়াবিন খৈল এ প্রোটিন রয়েছে ৪৭. ৬% এর থেকেও
বেশি প্রোটিন রয়েছে ফিশ মিলে।ফিশ মিলে ফিস মিল গ্রেডে ১ এ রয়েছে সব থেকে হাই
প্রোটিন।
হাই প্রোটিনের গরুর সব থেকে বেশি মোটাতাজা হয়ে থাকে। শুটকি মাছের গুড়া হচ্ছে
উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন খাবার যা গরুর মাংসপেশি গঠনে ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা
পালন করে।তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন খাবার যখন দিবেন তখন
পরিমাণে কম দিতে হবে। আপনি যদি অন্যান্য খাবারের সাথে ফিশ মিল যোগ করেন তাহলে
আশানুরূপ ফল পাবেন।
গর্ভবতী গাভীর খাদ্য তালিকা
আপনি যদি গর্ভবতী গাভীর যত্ন না নেন তাহলে ভালো বাছুর পাবেন না। গর্ভবতী
গাভী পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার কাঁচা ঘাস খড় ও দানাদার খাবার পাচ্ছে কিনা,
নিয়মিত গোসল ও গরু যেখানে থাকবে সেই জায়গাটা পরিষ্কার আছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য
রাখতে হবে। বিশেষ করে গরু যে স্থানে থাকে সেই জায়গাটা পিচ্ছিল কিনা যেন গাভী
পড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গর্ভবতী গাভী হলে পুষ্টির জন্য সবুজ ঘাস ও
হজমের সহায়তার জন্য আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত দিতে হবে।গাভী ও বাছুরের জন্য সহায়ক
পর্যাপ্ত পরিমাণ দানাদার খাদ্য দিতে হবে। নিচে গর্ভবতী গাভীর খাদ্য তালিকা তুলে
ধরা হলো।
| খাদ্য তালিকা | পরিমাণ |
|---|---|
| সবুজ ঘাস | ১৪-১৫ কেজি |
| শুকনো খড় | ৫-৬ কজি |
| দানাদার খাদ্য | ২-৩ কেজি |
| গমের ভুষি | ১ কেজি |
| খেসারি/সরিশা/তিলের খৈল | ১ কেজি |
| খৈল | ২৫০ গ্রাম |
| চালের গুড়া | ৫০০ গ্রাম |
| চিটাগুড় | ১৫০ গ্রাম |
| খনিজ মিশ্রণ | ৫০ গ্রাম |
| লবণ | ৫০ গ্রাম |
গরুর দুধ বাড়ানোর উপায়
গরুর দুধ দহন করার আগে অবশ্যই গরুর ওলান এবং ঘর ভালো করে পরিষ্কার করে নিবেন
তারপরে দুধ দহন করবেন। আর অন্য কিছুই যদি গরুকে না খাওয়ান যদি শুধু গমের ভুসি
খাওয়ার তাহলে অবশ্যই গরুর দুধ ঠিক থাকবে এবং দুধ বাড়বে। আরো একটি খাবার রয়েছে
তা হল কাঁচা কলাই।কাঁচা কলাই গরুর দুধ বাড়তে সাহায্য করে। আপনার এলাকায় যদি
কলাই চাষ গলায় চাষ হয় তাহলে আপনি এটি গরুকে খাওয়াতে পারেন।গাভীর দুধ বাড়ানোর
জন্য সবথেকে যে কার্যকরী খাবার তা হল
- গমের ভুসি
- কাঁচা কলাই
- নেপিয়ার ঘাস
প্রধান খাদ্য ঘাস হলেও এর পাশাপাশি বাড়ানোর সবথেকে কার্যকরী হলো গমের
ভুসি।অন্তত পরপর তিনদিন সকাল বিকাল করে গমের ভুসি পরিমাণ মত দানাদার খাবারের
মধ্যে দিয়ে গরুকে খাওয়াতে হবে। তবে মনে রাখবেন গরুর খাদ্য তালিকায় কাঁচা
ঘাসের বিকল্প নেই। যদি শুধু গমের ভুসি দেন তাহলে গরুর শারীরিক ক্ষতি হবে।
অবশ্যই মনে রাখবেন গরুর শারীরিক গঠন ঠিক রাখার জন্য জন্য ঘাসের বিকল্প নেই।
কারণ ঘাসের মধ্যে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে।
গাভীর দুধ দোহন পদ্ধতি
এর দুধ দোহন দুই পদ্ধতিতে হয়ে থাকে এক হাত দিয়ে ও দুই মেশিন দিয়ে। হাত
দিয়ে গাভীর দুধ দোহন পদ্ধতিতে গরুর ওলান থেকে দুধ বের করে আনে। হাত দিয়ে দুধ
দোহন পদ্ধতিতে দহনকারীকে অবশ্যই শরীর ও হাত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জীবন ও মুক্ত
রাখতে হবে। এবং দোহনের পূর্বে গাভীর শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। এবং দহনের
পূর্বে গাভীর ওলান ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং শুকনা কাপড় দিয়ে
সেটি মুছে ফেলতে হবে। দুধ দোহনের সময় প্রথমে কয়েক ফোটা দুধ ফেলে দিতে হবে।
তারপর দুধ দোহন শুরু করতে হবে।
গাভীর দুধ দোহনের পূর্বে আরো যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা হল যে ঘরে দুধ দোহন
করা হবে সেই ঘরটি ঠান্ডা ছায়াযুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এবং
প্রতিদিন একই সময়ে গাভীর দুধ দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের সময় গাভীর প্রস্তাব বা
গোবর যেন দুধের পাত্রে না পরে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আধুনিক বা মেশিন দিয়ে
দুধ দহন পদ্ধতি সাধারণত অল্প সময় স্বাস্থ্যকর উপায়ে অধিক দুধ উৎপাদনের
জন্য করা হয়ে থাকে।দুধ দোহনের এই মেশিনটি মিল্কিং মেশিন বলা হয়।মেশিনের মাধ্যমে
ব্যাকটেরিয়া গরুর বাটে প্রবেশ করে যেন সংক্রমণ ঘটাতে না পারে তাই মেশিন পরিষ্কার
রাখতে হবে।
গাভীর দুধ কমে যাওয়ার কারণ কি?
গাভীর দুধ কমে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। প্রধান দুটি কারণ এর মধ্যে
একটি হল সাব ক্লিনিক্যাল ম্যাসটাইটিস রোগ বাহির থেকে কোন লক্ষণ বোঝা যাচ্ছে না
ভেতরে কোন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। আরেকটি কারণ হচ্ছে হরমোন।কোন কারনে যদি
হরমোনের ঘাটতি দেখা যায় অর্থাৎ অক্সিটোসিন আমরা জানি অক্সিটোসিনের প্রভাবে দুধ
আসে।অক্সিটোসিন যদি কমে যায় ওলানে দুধ থাকবে ঠিকই কিন্তু বাটে আসবেনা।
অর্থাৎ,আপনি দুধ দোহন করতে পারবেন না।
অক্সিটোসিন হরমোনের অভাব হলে একজন বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
অক্সিজেন হরমোন ইনজেকশন নিতে হবে। অন্যদিকে সাব ক্লিনিকের হলে সময় মত চিকিৎসা
দিলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।যখন গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করানো হয় গাভী
গর্ভবতী হয় তখনও হরমোনার পরিবর্তনের কারণে দুধ কমে যায়। এছাড়া গাভীকে পর্যাপ্ত
পরিমাণ সুষম খাদ্য না দেওয়া হলে ও সঠিক যত্ন না করা হলেও গরুর গাভীর দুধ কমে
যায়।এছাড়া বাছুর প্রসবের গরম গাভীর দুধ কমে যাওয়া একটি সাধারন সমস্যা।
কোন জাতের গরুর দুধ সবচেয়ে বেশি হয়?
তুমি যদি দুধ উৎপাদন করার গাভী পালতে চান তাহলে যেসব জাতের গাভী বেশি দুধ দেয় সে
সকল জাতের গাভী লালন-পালন করতে হবে। যেন আপনি বেশি দুধ পান কারণ অনুন্নত জাতের
গাভী লালন পালন করলে আপনি আশানুরূপ ফল পাবেন না। হলেস্টিন ফ্রিসিয়ান জাতের গরুর
দুধ সবচেয়ে বেশি হয় এছাড়া আরো কিছু জাত রয়েছে যেমন শাহীওয়াল,গির, ফ্রেগবি,
জার্সি প্রভৃতি।নিচে বিভিন্ন জাতের গরুর দৈনিক দুধ উৎপাদন এর তালিকা দেয়া হলো।
শাহীওয়াল :
পূর্ণবয়স্ক ওজন ৩৫০- ৪০০ কেজি
বাছুরের ওজন ৩০- ৩২ কেজি
দৈনিক দুধ উৎপাদন ১০ -১২ লিটার
ল্যাকটেশন পিরিয়ড ২৮০-২৯০ দিন
গির:
পূর্ণবয়স্ক ওজন ৪০০-৪২০ কেজি
বাছুরের ওজন ৩০- ৩২ কেজি
দৈনিক দুধ উৎপাদন ১৪-১৫ লিটার
ল্যাকটেশন পিরিয়ড ২৯০-২৯৫ দিন
ফ্রেগবি:
পূর্ণবয়স্ক ওজন ৪০০- ৪৫০ কেজি
বাছুরের ওজন ৪০- ৪৫ কেজি
দৈনিক দুধ উৎপাদন ১৮-২২ লিটার
ল্যাকটেশন পিরিয়ড ২৮০-২৯০ দিন
জার্সি :
পূর্ণবয়স্ক ওজন ৫০০কেজির বেশি
বাছুরের ওজন ৪৫- ৫০ কেজি
দৈনিক দুধ উৎপাদন ২০-২৫ লিটার
ল্যাক্টেশন পিরিয়ড ২৯০-৩০০ দিন
হলেস্টিন ফ্রিসিয়ান :
পূর্ণবয়স্ক ওজন ৫৫০কেজির বেশি
বাছুরের ওজন ৪৫- ৫০ কেজি
দৈনিক দুধ উৎপাদন ২২- ২৮ লিটার
ল্যাক্টেশন পিরিয়ড ৩০০- ৩০৫ দিন
গাভীর দুধ বন্ধ করার উপায় কি?
সাধারণত দেখা যায় যে উন্নত জাতের গাভী গুলো প্রায় বারো মাস দুধ দেয়।
কিন্তু গর্ভবতী অবস্থায় বাচ্চা প্রসবের দুই মাস আগেই দুধ দোহন বন্ধ করা উত্তম
এতে করে পরবর্তীতে বাচ্চার দেওয়ার পর দুধ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং দুধ
প্রবাহ ঠিক থাকবে। আর যদি দেখা যায় বাচ্চা জন্ম দেওয়া পর্যন্ত যদি দুধ দোহাতে
থাকেন তাহলে একটা সময় দুধ প্রোডাকশন কমে যাবে। সাত মাস পরেও যদি আপনারা দুধ দহন
না করেন সেক্ষেত্রে দেখা যাবে গাভীর পেটের বাচ্চাটাও দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে যাবে।
এক্ষেত্রে বাছুরের পুষ্টি ঘাটতি দেখা দিবে ও এমনকি প্রতিবন্ধীও হতে পারে।
তবে হঠাৎ করে দুধ দোহন পদ্ধতি বন্ধ করা যাবে না প্রথম দিকে ধীরে ধীরে
দানাদার খাবার কমিয়ে দিয়ে দুধ দোহন কমিয়ে দিবেন একটা পর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ
করে দিবেন। দুই একদিন হয়তো গাভী ব্যথা অনুভব করবে কিন্তু আবার তা ঠিক হয়ে যাবে।
এরপর আবার আবার ধীরে ধীরে দানাদার খাবার বাড়িয়ে দিতে হবে।এটি হচ্ছে উত্তম
পন্থা। তবে অনেকেই চায় বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে মেডিসিন ব্যবহার করতে কিন্তু এটি
আসলে উচিত না। কারণে তে করে পেটের বাছরের যেমন ক্ষতি হতে পারে তেমনি দুধ
প্রোডাকশন ও কমে যেতে পারে। ওষুধ ব্যবহার করে দুধ প্রোডাকশন বন্ধ করা উচিত
নয়।বাচ্চা প্রসবের পর পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আবার দুধের গরুর খাদ্য তালিকা অনুসরণ
করে খাবার দিতে হবে।
শেষ কথা:দুধের গরুর খাদ্য তালিকা
দুধের গরুর খাদ্য তালিকা সহ গবাদি পশু বিষয়ক আনুষঙ্গিক আরো বিষয় আপনাদের সামনে
তুলে ধরেছি।দুধের গরুকে সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করে খাবার দিলে দুধ উৎপাদন বেশি
হবে।এবং গাভীর পর্যাপ্ত যত্ন করলে করলে গাভী সুস্থ থাকবে। তবে আপনি যদি অতিরিক্ত
দানাদার খাবার গাভীকে দেন সে ক্ষেত্রে আবার হজম করতে না পেরে পাচনতন্ত্রের সমস্যা
হতে পারে এবং ওজন বৃদ্ধি পাবে আর ওজন বৃদ্ধি পেলে দুধ উৎপাদন ক্ষমতা কমে যেতে
পারে।
সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা করলে দুধের গাভীর দুধ উৎপাদন যেমন বেশি হয় তেমনি
গাভীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ঠিক থাকে এবং সুস্থ বাছুর জন্ম দিতে সক্ষম হয়। সঠিক
পরিচর্যায় গাভীর জীবনকাল বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন পালন করে এতে করে খামারি
সামগ্রিকভাবে লাভবান হয়। প্রিয় পাঠক আজকের এই আলোচনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
পড়ে থাকেন তাহলে আশা করছি একজন নতুন খামারি হিসেবে আপনি উপকৃত হবেন। আর্টিকেলটি
ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ থাকলো।

Growwithnazmin এর'র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url